কুয়াকাটার শুঁটকী পাড়ার কথা

কুয়াকাটার শুঁটকী পাড়ার কথা
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ‘শুঁটকীপাড়া’ নামে একটি এলাকা রয়েছে। সারি সারি বাঁশের মাচা। সে মাচার উপর নানান পদের মাছ শুঁটকী হচ্ছে। আর সে শুঁটকী চালান হয়ে যায় দেশের বিভিন্ন প্রাণ্তে। দুশতাধিক মানুষ এই শুঁটকীপাড়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আর ঐ শুঁটকীপাড়ায় এমন অনেক মাছ দেখা যায় যা সহজে সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। ‘শুঁটকীপাড়া’ উপাদেয় শুঁটকী মাছ তৈরি করলেও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিবেশের স্বার্থে ‘শুঁটকীপাড়া টিকে ইতিমধ্যে আধা কিলোমিটার সরানো হলেও বর্তমান পর্যটন কেন্দ্র্র গড়ে উঠায় আরে এক কিলোমিটার সরানো দরকার।
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে প্রবেশ করলে ডানদিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এই শুঁটকীপাড়া। সৈকতেই তৈরি হয়েছে বাশের মাচা। সেই মাচার উপর চাটাই বিছানো। একই সাথে উঁচু করে আড়াআড়িভাবে বাশ বেঁধে তৈরি করা হয়েছে। এটাই হচেছ ’কারখান’ দিয়েই গড়ে উঠেছে ‘শুঁটকীপাড়া’। এই শুঁটকী প্রক্রিয়াকরণ এলাকাটি পুরোপুরি অস্থায়ী। বর্ষার আগে আগেই সবাই গুটিয়ে নেবে নিজস্ব ব্যাবসা। এ পাড়ায় যে ঘরগুলো রয়েছে সেখানে কোনো পরিবার নেই । শুধুমাত্র মাছ রাখা ও শ্রমিকদরে থাকার কাজেই এগুলো ব্যবহার হয়।
কি কি মাছের শুঁটকি করা হয় প্রশ্ন করল মো: হাসান আলী জানান, লইট্রা, চাবল, ফাইসা, লাঙ্গা, ছুরি, হাঙ্গর, মেদ, শাপলাপতা মাছসহ নানা ধরনের মাছের শুঁটকী করা হয়। মাছ এনে নাড়িভূঁড়ি ফেলে দিয়ে সাগরের পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে শুঁটকী করা হয়। সপ্তাহখানেক সময় লেগে যায় রোদ ভালো পাওয়া গেলে। মেঘলা থাকলে সময় বেশি লাগে। এখানে ডিডিটি বা অন্য কোন রাসায়নিক দ্রব্য মাছের পচন রোধে ব্যবহার হয় না বলে তিনি জানান। বিকালের দিকে শুঁটকীপাড়া বেশ তৎপর থাকে। তখন নৌকা ট্রলার সৈকতে চলে আসে। বিশাল বিশাল হাঙ্গর, শাপলাপাতা, চাবলসহ নানা মাছ নিয়ে ভিড় জমে। দাম দস্তুর হয়, কেনাবেচা চলে। তবে শাপলাপাতা ও হাঙ্গরের আমদানি ইদানীং বেশী বলে জানালেন একজন জেলে। অনেক সময় ৭-৮ মন ওজনের হাঙ্গরও শুঁটকীপাড়ায় আসে বলে জনৈক জেলে জানায়। ৭-৮ মন ওজনের একটি হাঙ্গরের দাম ৮-৯ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। শার্কফিন বা হাঙ্গরের পিঠ ও অন্য দুটি কিনার কেটে চট্রগ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখান থেকে বিদেশে রপ্তানি হয়। শার্কফিন পশ্চিমা দেশে স্যূপ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অন্যন্য অংশ টুকরো করে কেটে শুঁটকী করা হয়। একইভাবে কাটা হয় শাপলাপাতা মাছ। এ সময়টি দেখার মতো সাগর সৈকতের বিভিন্ন স্তানে পড়ে থাকে বিশাল সব হাঙ্গর, শাপলাপাতা মাছ। শ্রমিকরা বিপুল উৎসাহে কাটছে। চারিদিকে টুরিস্ট ও বাচ্চাদের ভিড়।
শুঁটকীপাড়ার শুঁটকী রপ্তানি হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে হাঙ্গর ও শাপলাপাতা মাছের শুঁটকী রপ্তানি হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে হাঙ্গর ও শাপলাপাতা মাছের শুঁটকী খায় উপজাতিরা। আর বান্দরবন, খাগড়াছগড়, রাঙ্গামটি অঞ্চলে এর চাহিদা বেশি বলে জানা যায়। মাছ শুঁটকী করতে গিয়ে অপরিষ্কার করে তুলছে সমুদ্র সৈকত। যেখানে সেখানে ফেলা হচ্ছে মাছের পরিত্যক্ত অংশ। পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। টুরিষ্টরা সৈকতে এসে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে যায়। সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য এবং পরিবেশ রক্ষায় মাছের পরিত্যক্ত অংশ যেখানে সেখানে না ফেলে পরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থা নিয়ে শুঁটকী উৎপাদন করলে একদিকে পরিবেশে যেমন নষ্ট হবে না, অন্যদিকে সৈকতের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পাবে।

About the Author

admin@onlineshoppingbd.com.bd

Related Post

Submit a Review

Display Name

Email

Title

Message

Call Now ButtonCall Now!